প্রকাশিত:
১০ জানুয়ারী, ২০২৬

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আবারও বিশ্বের বৃহত্তম দ্বীপ ‘গ্রিনল্যান্ড’ ক্রয় বা দখলের বিষয়টি সামনে এনে বিশ্ব রাজনীতিতে তোলপাড় সৃষ্টি করেছেন। এক সাম্প্রতিক ভাষণে তিনি অত্যন্ত আক্রমণাত্মক সুরে জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্র তার ভূ-রাজনৈতিক ও খনিজ নিরাপত্তার প্রয়োজনে গ্রিনল্যান্ডকে নিজেদের অন্তর্ভুক্ত করতে বদ্ধপরিকর। তিনি বলেন, "আমরা এটি সুন্দরভাবে (ক্রয়ের মাধ্যমে) করতে পারি, অথবা প্রয়োজনে আরও কঠিন উপায় অবলম্বন করতে পারি।"
গ্রিনল্যান্ড প্রসঙ্গে ট্রাম্প আরো বলেন, ‘আমি চুক্তির মাধ্যমে, মানে সহজ পথে বিষয়টিকে সমাধান করতে চাই। এতে কাজ না হলে, কঠিন পথেই করব।’
ট্রাম্পের দাবি, খনিজসম্পদে সমৃদ্ধ এ দ্বীপ নিয়ন্ত্রণ করা যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তার জন্য জরুরি। কারণ আর্কটিক অঞ্চলে রাশিয়া ও চীনের সামরিক তৎপরতা বাড়ছে।
২০১৯ সালে ট্রাম্প প্রথম গ্রিনল্যান্ড কেনার প্রস্তাব দিয়েছিলেন, যা তখন ডেনমার্ক সরকার 'হাস্যকর' বলে উড়িয়ে দিয়েছিল। কিন্তু ২০২৬ সালে ক্ষমতায় ফিরে ট্রাম্প এই ইস্যুটিকে তাঁর ‘আমেরিকা ফার্স্ট’ পলিসির অন্যতম প্রধান এজেন্ডা হিসেবে ঘোষণা করেছেন। ট্রাম্পের মতে, ২১ শতকের ভূ-রাজনীতিতে গ্রিনল্যান্ডের নিয়ন্ত্রণ থাকা যুক্তরাষ্ট্রের জন্য অপরিহার্য।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট আরো বলেন, ‘আমরা রাশিয়া বা চীনকে গ্রিনল্যান্ড দখল করতে দেব না। আমরা পদক্ষেপ না নিলে তারা ঠিকই সেটিকে দখল করে নেবে। তাই গ্রিনল্যান্ড নিয়ে আমাদের কিছু করতে হবে। হয় তা সুন্দরভাবে, না হয় আরো কঠিন কোনো উপায়ে।
ট্রাম্পের এই "কঠিন উপায়" অবলম্বনের হুমকির পর ডেনমার্ক এবং গ্রিনল্যান্ডের স্থানীয় সরকার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে।
গ্রিনল্যান্ডে বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের একটি সামরিক ঘাঁটি রয়েছে।
এদিকে ডেনমার্কের প্রধানমন্ত্রী মেট ফ্রেডেরিকসেন সতর্ক করে বলেন, গ্রিনল্যান্ডে কোনো ধরনের আক্রমণ মানেই ন্যাটো ও দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ-পরবর্তী নিরাপত্তা কাঠামোর ‘সবকিছু শেষ’ হয়ে যাওয়া।
তবে ডেনমার্কের এই উদ্বেগ নিয়ে উপহাস করেন ট্রাম্প।
আগামী সপ্তাহে ডেনমার্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও গ্রিনল্যান্ডের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠকে বসার কথা রয়েছে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওর।
উল্লেখ্য, ২০০৩ সালে ইরাক আক্রমণের সময় ডেনমার্ক যুক্তরাষ্ট্রের একনিষ্ঠ মিত্র হিসেবে পাশে ছিল।